বাংলাদেশ প্রযুক্তিতে কতটা পিছিয়ে আছে, এবং এর পিছনে কারণ কী?
বাংলাদেশ প্রযুক্তিতে কতটা পিছিয়ে আছে, এবং এর পিছনে কারণ কী?
এটা অনেকটা রাজনৈতিক উত্তর হয়ে যাবে। তারপরও সত্য যেটা বলতে হয়।
১৯৯২ সালে যখন নতুন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তখন বাংলাদেশ ইন্টারনেট আনার জন্য প্রস্তাব উঠে। কিন্তু তৎকালীন সরকার, তথ্য পাচার হয়ে যাবার ভয়ে প্রস্তাবটি বাতিল করে দেয়।
১৯৯৬ সালে নতুন সরকার গঠিত হয়, এবং বাংলাদেশ ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করে।
কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তখন প্রতিটা মানুষের কাছে আজকের মত ডিজিটাল প্রযুক্তি ছিল না। হাতে গোনা কয়েকটা মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করত। এবং তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার কারণ ইন্টারনেট মূল্য ঐসময় টাতে খুব বেশি ছিল যেটা সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে।
এবং ব্রডব্যান্ড সেবা শুধুমাত্র বড় শহর গুলোতে বিদ্যমান ছিল।
যে কারণে ইলন মাস্ক যখন পেপাল নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিল, বাংলাদেশে কখন হাতেগোনা দু-চারজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার ছিল যারা টুজি ইন্টারনেট ব্যবহার করত।
একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমন ইন্টারনেটের স্পিড বেড়েছে যার ফলে পাঠাও এর মত ইন্টারন্যাশনাল ব্রান্ড বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে।
যদি আমরা খেয়াল করে দেখি বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের থেকে 10 থেকে 15 বছর পিছিয়ে আছে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে।
এই পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে আমরা অনেকটাই বলতে পারি যে আমাদের দারিদ্রতা এবং ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য এর জন্য দায়ী।
আজ থেকে দশ বছর পর আমরা আশাবাদী ফেইসবুক ইউটিউব অ্যামাজন কিংবা পেপাল এর মত বড় বড় ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড বাংলাদেশে তৈরি হবে।
উন্নত দেশের সাথে আমাদের তুলনা করলে আমরা বেশ পিছিয়ে আছি। কিন্তু যদি আমাদের মতই মধ্যম আয়ের দেশের সাথে তুলনা করি তাহলে বাংলাদেশের প্রযুক্তি বেশ সমাদৃত।
যেমন বাংলাদেশের উদ্ভাবিত আইওটি ডিভাইস ব্যবহৃত হচ্ছে জাপানে এবং সৌদি আরবে।
সৌদি আরব তাদের বাসা বাড়ির পানির ট্যাংকের ওয়াটার লেভেল সম্পর্কিত তথ্য, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পানি শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই বার্তা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশী আইওটি প্রযুক্তি এবং ডিভাইস ব্যবহার করছে।
উল্লেখ্য আইওটি শব্দের অর্থ হচ্ছে "ইন্টারনেট অফ থিংস"।
এর পর এই যে আমরা বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করি। এই প্রযুক্তিতে সফল হওয়ার দিক থেকে চতুর্থ দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। আঙ্গুলের ছাপ দেখে অপরাধী সনাক্তকরণ প্রথম আবিষ্কার হয় অখন্ড ভারতের কলকাতা থেকে। তবে তার পেছনেও ছিল এক বাংলাদেশী (তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার) বিজ্ঞানীর অবদান। যদি কলোনিয়াল শাসকেরা এই অর্জন তাদের বলেই চালিয়ে দিয়েছে।
এরকম ইতিহাস বাংলাদেশের অসংখ্য আছে এবং সেই ধারাবাহিকতা থাকলে হয়ত আমরা আরো আগাতে পারতাম। তবে পিছিয়ে থাকার সব থেকে বড় কারণ হচ্ছে আমাদের জেনারেশন।
আমাদের ভেতর গবেষণা করার মানসিকতা কম। আমরা সবক্ষেত্রেই সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকি। প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে পড়ার জন্যও আমরা সরকারকে গালিগালাজ করি অথচ এখানে আমাদের অংশগ্রহ শূণ্যের থেকে একটু বেশি।
এর বাইরে মেধাপাচার উপমহাদেশ থেকে যেভাবে হচ্ছে সেভাবে অন্য কোথাও হচ্ছে না।
মেধাবী মানুষগুলো যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে না পড়ে তাহলে হয়ত তারা দেশের জন্য কিছু করতে পারবে। তাদের উদ্ভাবিত পণ্যের বাজার বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলে তারা দেশ থেকেই ভালো কিছু করতে পারবে। অথচ তাদের অধিকাংশেরই অজুহাত "এই দেশ তাদের মূল্যায়ন করতে পারেনা"। অর্থ্যাৎ ঘটা করে তাদের মূল্যায়ন করতে হবে অথবা কেউ তাদের অবমূল্যায়ন করলে তাদের জাত যাবে।
আবার টিকটক কালচার নিয়ে বেড়ে ওঠা বর্তমান জেনারেশনের ভবিষ্যৎ কতটুকু উজ্জ্বল সেটাও চিন্তার বিষয়।
সবমিলিয়ে আমাদের সবার অনাগ্রহই মূলত প্রযুক্তির দিক থেকে পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। ভিনদেশী প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে যতই উৎকর্ষতা আনি না কেন, সেটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না কখনোই।
তবে আমি অতটা হতাশ নই। আপনি দেখবেন প্রায় প্রতিটি হাতেই স্মার্টফোন। এরা নেট চালায়। এর মাধ্যমে আপনি সহজেই উপকৃত হবেন। দিন দিন নুতন প্রযুক্তি আসছে। যুবসমাজ তা গ্রহণ করছে। আপনি ১৫ বছর আগে ভেবেছিলেন এমনটি হবে? তবে আগামী ১৫ বছর পর? কিছু সমস্যা নাই যে নয়। থাকবে। এর মধ্যেই আপনাকে যেতে হবে।
Fact:
Brain
Drain
Comments
Post a Comment
Thanks for your comment