ফেসবুক বনাম অ্যাপল: মার্ক জাকারবার্গ ও টিম কুকের বৈরিতার ইতিহাস

ফেসবুক বনাম অ্যাপল: মার্ক জাকারবার্গ টিম কুকের বৈরিতার ইতিহাস

২০১৯ সালের জুলাইয়ে আইডাহোর সান ভ্যালিতে মিডিয়া প্রযুক্তি মোঘলদের বার্ষিক কনফারেন্সে অ্যাপলের সিইও টিমোথি ডি কুকের সঙ্গে দেখা হয় ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের। বহু বছর ধরেই বার্ষিক এই কনফ্যাবে তাদের দেখা হয়। তবে ওই বছর তাদের সাক্ষাতের ধরণ ছিল ভিন্ন। দুই জনের মধ্যকার সম্পর্কে তখন টানাপোড়েন চলছে। পাঁচ কোটিরও বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য তাদের অনুমতি ছাড়াই ভোটার-প্রোফাইলিং সংস্থা ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার হাতে চলে যায়। আর ওই কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত ছিলেন জাকারবার্গ। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা, নিয়ন্ত্রক প্রযুক্তি নেতাদের তীব্র সমালোচনা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। সমালোচনাকারীদের মধ্যে ছিলেন কুকও।

আইডাহোর ওই কনফারেন্সে নিজেদের ছেড়া সম্পর্ক জোড়া লাগাতে কুকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জাকারবার্গ

কুককে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার জায়গায় থাকলে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কেলেঙ্কারি কিভাবে সামালন দিতেন তিনি?
বৈঠকের সময় উপস্থিত ছিলেন, এমন কয়েকজন জানান, জাকারবার্গের প্রশ্নে তিক্ত হয়ে উত্তর দিয়েছিলেন কুক। বলেছিলেন, ফেসবুকের নিজস্ব অ্যাপগুলো বাদে অন্যান্যভাবে ব্যবহারকারীদের যেসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তা মুছে ফেলা উচিৎ ফেসবুকের। কুকের এমন উত্তর শুনে চমকে উঠেন জাকারবার্গ
এখানে উল্লেখ্য, মূলত ব্যবহারকারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করেই আয় করে থাকে ফেসবুক। ব্যবহারকারীদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে তাদের অনলাইন বিজ্ঞাপন দিয়ে টার্গেট করে থাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। অর্থাৎ, ফেসবুককে ব্যবহারকারীদের তথ্য ডিলিট করতে বলা আর ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বলা মূলত একই কথা। বলা বাহুল্য যে, কুকের উপদেশ মানেননি জাকারবার্গ।
সান ভ্যালির ওই কনফারেন্সের পর দুই বছর পেরিয়ে গেছে। আর এরই মধ্যে কুক জাকারবার্গের বৈরিতা বেড়ে এক প্রকার যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত সোমবার ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার্থে নতুন একটি ফিচার চালু করেছে অ্যাপল। এই ফিচারের আওতায়, আইফোন ব্যবহারকারীরা ঠিক করতে পারবেন যে, ফেসবুকের নিজস্ব অ্যাপ ব্যতিত অন্যান্য অ্যাপেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহারকারীদের খোঁজ রাখতে পারবে কিনা।
ফেসবুকের মতো যেসব প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরশীল, সেসব প্রতিষ্ঠান বা অ্যাপ তাদের ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে অন্যান্য অ্যাপে কী করছে তারও খোঁজ রাখে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই ব্যবহারকারীদের আগ্রহ সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে পারে তারা। আর ফেসবুক তথ্য বিশ্লেষণ করেই ব্যবহারকারীদের সামনে হাজির করে নানান বিজ্ঞাপন। ধারণা করা হচ্ছে, বেশিরভাগ আইফোন ব্যবহারকারীই ফেসবুকের এই অযাচিত পিছু লেগে থাকাকে ভালো চোখে দেখে না। যার মানে, অ্যাপলের ফিচারটি ফেসবুকের ব্যবসায় বড় ধরণের এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।
ফেসবুক অ্যাপলের এই চলমান বিবাদের কেন্দ্রস্থলে রয়েছেন কুক জাকারবার্গ। কুক একজন দক্ষ নির্বাহী। অ্যাপলে বহুদিন ধরে কাজ করেছেন। বহু সিঁড়ি পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, হার্ভার্ডে পড়া থামিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাম্রাজ্য ফেসবুক গড়ে তুলেছেন জাকারবার্গ। বিশ্বের ডিজিটাল ভবিষ্যত নিয়ে দুই জনের অবস্থানও ভিন্ন। কুক চান মানুষজন সুরক্ষিত ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। এতে মানুষের ঘাঁটের পয়সা গেলে সমস্যা নেই। এই কৌশলে সবচেয়ে এগিয়ে আছে অ্যাপলই। অন্যদিকে, জাকারবার্গ চান 'মুক্ত ইন্টারনেট', যেখানে ফেসবুকের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলো সবসময় বিনামূল্যেই ব্যবহার করা যাবে। আর এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির আয় হবে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে।
কুক জাকারবার্গের সম্পর্ক দিন দিন আরও বৈরি হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন তাদের পরিচিতরা। একসময় অ্যাপলের প্রয়াত সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের সঙ্গে হাঁটতে, খাবার খেতে যেতেন জাকারবার্গ। কুকের সাথে এমনটা করতে দেখা যায়নি তাকে। আবার কুক গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সাথে প্রায়ই দেখা করলেও, জাকারবার্গের সাথে কেবলমাত্র বিভিন্ন অনুষ্ঠানেই দেখা হয় তার।  
বৈরিতার শুরু
কুক জাকারবার্গের প্রথম দেখা এক দশকেরও বেশি সময় আগে। কুক তখন অ্যাপলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নির্বাহী আর ফেসবুক কেবল একটি স্টার্ট-আপ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে।
অ্যাপলের সাবেক এক কর্মীর ভাষ্যমতে, ফেসবুককে তখন গুগলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতো অ্যাপল। অ্যান্ড্রয়েডের মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপেও পা ফেলা শুরু করেছিল গুগল। ২০১০ সালে অ্যাপলের ডিজিটাল সার্ভিস বিষয়ক প্রধান এডি কিউ ফেসবুকের সঙ্গে অ্যাপলের একটি সম্ভাব্য পার্টনারশিপের জন্য জাকারবার্গের সাথে দেখা করেন। বৈঠকগুলোতে জাকারবার্গ ফেসবুকের পক্ষে অ্যাপলের কাছ থেকে ব্যাপক সুবিধা দাবি করেছিলেন! অন্যথায় ফেসবুক একলা চলো নীতিতে হাটবে বলেও জানিয়ে দেন তিনি। অ্যাপলের অনেকের কাছে জাকারবার্গের বক্তব্যের টোন অহংকারী শুনিয়েছিল।
তবে ভিন্ন দুই জন ব্যক্তি জানান, আদতে বৈঠকের আলোচনা আন্তরিক ছিল। এমনকি ওই আলোচনার প্রেক্ষিতেই আইফোন থেকে সরাসরি ফেসবুকে ছবি শেয়ার করার মতো একটি সফটওয়ারও তৈরি করা হয়েছিল।
কিন্তু সম্পর্কে ফাটলও তৈরি হয়েছিল কিছুটা। এরপর যত সময় যেতে লাগলো প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে সম্পর্ক আরো জটিল রূপ নিতে শুরু করলো। জটিলতার অন্যতম কারণ ছিল পরস্পরের উপর নির্ভরশীলতা। ফেসবুকের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের অন্যতম ডিভাইস ছিল আইফোন। অন্যদিকে, আইফোনের অ্যাপ স্টোর থেকে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপগুলোর মধ্যে তালিকায় স্থান করে নিয়েছিল ফেসবুক ফেসবুক-মালিকানাধীন ইন্সটাগ্রাম হোয়াটসঅ্যাপ।
২০১৪ সালের দিকে ফেসবুকের নির্বাহীরা আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে তাদের অ্যাপগুলো বণ্টনে অ্যাপলের প্রভাব নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাদের এই শঙ্কা আরও জোরদার হয় যখন একাধিকবার আইফোনের অ্যাপ স্টোরে ফেসবুকের অ্যাপগুলো দেরিতে আপডেট করে অ্যাপল।
একই বছর, ফেসবুকের পরিচালনা পর্ষদ একটি বড় মাপের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাপ কেনার ব্যাপারে আলোচনা করেন। সেটি কোন অ্যাপ ছিল তা জানা যায়নি। তবে ওই আলোচনায় অ্যাপলের প্রভাব বড় গুরুত্ব পেয়েছিল। গত বছর আলোচনাটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পায়। ওই বর্ণনা অনুসারে, ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গ এই চুক্তির পক্ষে বলেছিলেন, স্মার্টফোন সফটওয়্যারগুলোতে গুগল অ্যাপলের নিয়ন্ত্রণ থেকে ফেসবুককে রক্ষা করার জন্য চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অ্যাপলের সাবেক কর্মীদের ভাষ্যমতে, কাছাকাছি সময়েই ফেসবুকের প্রতি কুকের বিরূপ অবস্থান আরো শক্ত হয়। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনের পর সরকারি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনটিতে ফেসবুক ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করেছে রাশিয়া। এরপর ২০১৮ সালে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি ফেসবুকের প্রতি কুকের মনোভাব আরো তিক্ত করে তোলে।
সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানান, এরপর থেকেই ফেসবুক থেকে অ্যাপলকে দূরে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন কুক। ২০১৫ সাল থেকেই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পক্ষে কথা বলে আসছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে তা আরও জোরদার করে তোলেন। চালু করেন নতুন কর্পোরেট নীতিবাক্য: গোপনীয়তা একটি মৌলিক মানবাধিকার। অ্যাপলের মার্কেটিং নীতিমালাও গড়ে উঠে এর উপর ভিত্তি করে- গোপনীয়তা রক্ষার্থে মানুষের উচিৎ হাজার ডলারের আইফোন কেনা।
এরপর, ওই বছর নিজেদের ডেভেলপার কনফারেন্সে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি বের করে অ্যাপল। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার ফিচার। এজন্য আইফোনে বিল্ট-ইন ট্র্যাকার যোগ করে অ্যাপল। উল্লেখ্য, ফেসবুকের বিজ্ঞাপন নীতিমালা হচ্ছে, ব্যবহারকারীরা যত বেশি সময় অ্যাপ ব্যবহার করবে তাদের তত বেশি বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে।
গোপনীয়তা রক্ষার্থে নতুন ফিচারটি যোগ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে অ্যাপল তখন জানায়, আইফোনের সাফারি ব্রাউজারে ব্যবহারকারীদের কার্যবিধি ট্র্যাক করতে তাদের সম্মতি লাগবে ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর। ফেসবুক এধরণের ট্র্যাকিং করেই মূলত বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে অধিক অর্থ আয় করে থাকে।
এদিকে, গোপনীয়তা সংশ্লিষ্ট অ্যাপলের এসব পদক্ষেপকে কপটতা বলে আখ্যা দিয়েছেন ফেসবুকের বর্তমান সাবেক তিন কর্মী। তারা বলেন, ফেসবুকের মতো ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে গুগলও। কিন্তু আইফোনে গুগলের সার্চ ইঞ্জিন ডিফল্ট হিসেবে জুড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঠিকই গুগলের সঙ্গে মোটা অঙ্কের চুক্তি রয়েছে অ্যাপলের। আবার চীনের মতো দেশে, যেখানে সরকার তাদের নাগরিকদের অনলাইন কার্যক্রমের উপর নজর রাখে, সেখানেও অ্যাপলের বড় ব্যবসা রয়েছে।
এদিকে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে, জাকারবার্গ তার কর্মীদেরঅ্যাপল কুককে আঘাতকরার নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি। তার এই মন্তব্য নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিল।
দৃশ্যপটের অন্তরালে জাকারবার্গের পাল্টা পরিকল্পনা আরো এক বছর আগেই শুরু হয়ে গেছিল। ২০১৭ সালে ডিফাইনার্স পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গে কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে ফেসবুক। ডিফানাইর্স হচ্ছে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক একটি সংস্থা যেটি তাদের গ্রাহকদের রাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে গবেষণায় সিদ্ধহস্ত। সংস্থাটি চীনের সঙ্গে অ্যাপলের সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে তাদের গবেষণার উপাত্ত সাংবাদিকদের কাছে ছড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে একটি ওয়েবসাইট থেকে কুকের সমালোচনা করে আর্টিকেলও প্রকাশ করে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মীরা।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কুককে প্রতিষ্ঠা করতে জোরালো প্রচারণা চালায় ডিফাইনার। উদ্দেশ্য ছিল কুককে যেন শত্রু জ্ঞান করেন ট্রাম্প। ডিফাইনারের এক কর্মী জানান, এসব প্রচারণার জন্য ফেসবুকের পাশাপাশি কোয়ালকম থেকেও অর্থায়ন পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। অবশ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডিফাইনার্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিন্ন করে ফেসবুক।
পরবর্তীতে বার্তা বিনিময় অ্যাপ, গেমিং, ‘মিক্স-রিয়েলিটিপণ্যসহ অন্যান্য নানা বিষয়েও প্রতিযোগিতা শুরু করে অ্যাপল ফেসবুক। ২০১৯ সালের মধ্যে জাকারবার্গ কুকের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে। এরপর থেকে তা আরো খারাপের দিকেই এগিয়ে চলছে।
অ্যাপ ট্র্যাকিং
গত জুনে অ্যাপলের ভার্চুয়াল ডেভেলপার কনফারেন্সে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার্থে নতুন একটি ফিচার তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়। গত সোমবার এটি চালু হয়েছে। এর আওতায়, আইফোন ব্যবহারকারীরা ফেসবুকের নিজস্ব অ্যাপ ব্যতিত অন্যান্য অ্যাপেও ফেসবুকের ট্র্যাকিং থেকে নিজেদের কার্যবিধি গোপন রাখতে পারবেন।
ফেসবুকের জন্য গত জুনের ওই ঘোষণা ছিল যুদ্ধ ঘোষণার মতো। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক বর্তমান কর্মীরা জানান, ব্যবহারকারীদের যদি ট্র্যাকিং আটকে দেয়ার অপশন দেওয়া হয় তাহলে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।
এর আগে গেমিং নিয়েও একদফা লড়াই হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে। গত বছর ফেসবুকের একটি গেমিং অ্যাপ নিজেদের অ্যাপ স্টোরে অন্তর্ভুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানায় অ্যাপল। অন্তত পাঁচবার অ্যাপটিকে প্রত্যাখ্যান করে অ্যাপল। অবশেষে তাদের শর্ত অনুযায়ী অ্যাপটিতে পরিবর্তন আনা হলে, এরপরই সেটি অ্যাপলের স্টোরে স্থান পায়।
পরবর্তী কয়েক মাস ধরে অ্যাপল ফেসবুক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর সঙ্গে অ্যাপলের নতুন ট্র্যাকিং স্বচ্ছতা বিষয়ক ফিচারটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি চিঠি দেয়। অবশেষে গত ডিসেম্বরে অন্যান্য প্রকাশনাসহ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে পুরো এক পাতাজুড়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে অ্যাপলের ফিচারটির সমালোচনা করে ফেসবুক। দাবি করে, এতে ক্ষুদ্র আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপন প্রদানের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে ফেসবুক।
তবে অ্যাপল তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। কুক অ্যাপটিতে পরিবর্তন আনতে অস্বীকৃতি জানান। তবে বিজ্ঞাপনদাতাদের এর জন্য প্রস্তুতি নিতে কিছুটা বিলম্বে চালু করেন ফিচারটি। মজার বিষয় হলো, এই ফিচারের প্রচারণায় অ্যাপল ফেসবুক-সদৃশ একটি অ্যাপকে ব্যবহার করে অ্যাপল।

[দি নিউইয়র্ক টাইমস থেকে অনুবাদকৃত।]                                                                  

Kobita

Comments

Post a Comment

Thanks for your comment

Popular posts from this blog

ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি কেমন হওয়া উচিত?

আমি আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের আইডি ও পাসওয়ার্ড জানি। কিন্তু কেউ হ্যাক করার ফলে আমি ঢুকতে পারছি না। আমার মেইল ও মোবাইল নম্বর দুটোই পরিবর্তন করেছে। আমি এখন কী করতে পারি?

কেউ আমার ফেসবুক প্রোফাইলে ঘাটাঘাটি করলে, বোঝার কোনো উপায় আছে কি?